• LOGIN
  • No products in the cart.

Login

আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন

 

লেখক: অভিক পাল

আসামে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন এর চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের সাথে সাথে ভয়, হতাশা গোটা জনজাতিকে গ্রাস করেছে। এর প্রধান কারন যারা এই খসড়া থেকে বাদ পড়বেন তারা অভিবাসী বা বিদেশী বলে গন্য হবেন। কেন আসামের অধিবাসী কে নাগরিকত্বের প্রমান দিতে হবে? কিই বা হবে বিদেশী বলে গন্য হলে?? আসুন দেখে নেওয়া যাক।

♦এন আর সি (NRC) কি?

সাধারন ভাষায় ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন হলো ক্লাস অ্যাটেন্ডেন্স রেজিস্টার এর মত। ক্লাস রেজিস্টারে সব ছাত্রের নাম থাকে বিভাগ রোল নাম্বার থাকে তেমনি ন্যাশনাল রেজিস্টারে নাগরিকদের নাম থাকে। এই এন আর সি ১৯৫১ সালের আদমসুমারীর পর করা হয়েছিলো। আসাম একমাত্র রাজ্য যেখানে নাগরিকপঞ্জী রয়েছে।

 

♦বর্তমানে কি ঘটছে?

আবার ক্লাস রুম এর ঘটনায় ফিরে যাওয়া যাক। ধরা হল তোমার কোন বন্ধু অন্য কোন ক্লাসে গিয়ে বসে পড়ল।সমস্ত পঠন পাঠন শুনল। এবার প্রশ্ন ক্লাসের শিক্ষক কি তাকে বহিরাগত বলে গন্য করতে পারবে? হ্যাঁ পারবে ক্লাস রেজিস্টার বা তার আই ডি কার্ড দেখেই শনাক্ত করতে পারবে। এবার আসাম এর ঘটনায় যাওয়া যাক,বেশ কিছু বছর ধরেই অন্য দেশের নাগরিকেরা বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকেরা আসামে দলে দলে ঢুকেছে বে আইনি ভাবে। এবার এই বহিরাগতদের বাড়বাড়ন্তে সেখানকার আসল নাগরিকদের সাধারন অধিকার প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে তাই সরকার তাদের শনাক্ত করে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়।

♦এটা কিভাবে সম্ভব?

প্রথমত, তথ্যপঞ্জীর পুনর্গঠন করে। এই পদ্ধতি প্রথম শুরু হয় ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট এর ১৯৮৫ সালের একটি অর্ডার এর পরিপ্রেক্ষিতে।প্রধান কাজ হলো ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ সালের পর যে সমস্ত লোকেরা এই রাজ্যে ঢুকেছে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া। ২০১৬ সালে প্রথম সময়সীমা পেরোনোর পর ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭ তে প্রথম প্রকাশিত হয় তালিকা। তাতে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের নাম ছিলো উল্লেখ্য মোট জনসংখ্যা ৩.২৯ কোটি। এর পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় ৩০ শে জুনের মধ্যে শেষ খসড়া প্রকাশ করতে হবে। যা পরে ৩০ শে জুলাই অব্ধি বাড়ানো হয়।

♦আসাম এর অধিবাসীরা কিভাবে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমান করবেন?

আসামের অধিবাসীরা ১৯৫১ সালের আদমসুমারীর তথ্য বা ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকা নাগরিকত্ব প্রমানের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। যারা ১৯৭১ সালের পরে জন্মেছেন তারা তাদের পূর্বপুরুষের তথ্য ও তাদের পূর্বপুরুষের সাথে সম্পর্কের সার্টিফিকেট দাখিল করে নাগরিকত্বের প্রমান দিতে পারবেন।

♦আসাম সমস্যা কি?

আসাম স্বাধীনতার পর থেকেই এক বৃহৎ পরিমান অনুপ্রবেশ সহ্য করে আসছে। ব্রিটিশ যুগে পুর্ব বঙ্গ থেকে জনগন কে নিয়ে এসে বেশি শস্য উৎপাদনের জন্য কাজ করানো হতো যার উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্বযুদ্ধে খাবারের জোগান দেওয়া আর পরবর্তীকালে বাংলার দুর্ভিক্ষ সমস্যা সামলানো। পরবর্তী কালে ধর্মীয় কারনে ও অনেকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেতে নেপাল, বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসাম ও উত্তর পুর্ব ভারতীয় রাজ্যে ঢুকতে থাকেন। এতে আদি বাসিন্দারা ভীত হয় যে এই বৃহৎ জনসংখ্যা সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এতদিন চোখ বন্ধ করে বসেছিলো এই সমস্যা জানা সত্বেও। ফলে এই অনুপ্রবেশ সমস্যায় রাজ্যে হিংসার ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিলো।

১৯৭৯ সালে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (আসু) আসাম মুভমেন্ট শুরু করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এর দাবী জানিয়ে। ফলাফল হিসেবে আসু এবং অল আসাম গনসংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ভারত সরকারের একটি সর্বসম্মতি বৈঠকে ঠিক হয় যে ১৯৫১ – ১৯৬১ সালে প্রবেশকারীদের পূর্ন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এবং ২৪ শে মার্চ ১৯৭১ সালের পর যারা এ রাজ্যে ঢুকেছে তাদের বিতাড়িত করা হবে। যদিও একটা দাবী পূরন হয় এই পদ্ধতিতে তাও সমস্ত দাবী পূরন হয় নি।

♦মার্চ ২৪, ১৯৭১ কেন??

মার্চ ২৫ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু হয়।সে কারনে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসামে প্রবেশ করে তাই এই তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

♦ যাদের নাম এই নতুন নাগরিকপঞ্জী তে থাকবে না তাদের কি হবে??

যাদের নাম এই নাগরিকপঞ্জী তে থাকবে না তাদের বিদেশী বলে গন্য করা হবে।যদিও তাদের বিতাড়ন নিয়ে সরকার কোন রকম বক্তব্য রাখেনি। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকার কে নির্দেশ দেয় অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের জন্য বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক রফাসূত্র বের করতে। বৈধ নাগরিকগনও নাগরিকত্ব প্রমান করতে না পারলে তাদের কে বহিরাগত হিসেবে গন্য করা হবে এটাই সর্বাপেক্ষা চিন্তার।

January 5, 2020

3 responses on "আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন"

  1. দারুণ লিখেছিস ভাই…

  2. Khub sundar hoechhe…..

Leave a Message

Who’s Online

There are no users currently online

X