• LOGIN
  • No products in the cart.

Login

ইকোনমিক্স কি?

ECONOMICS কি? প্রশ্নটা যতটা সহজ ভাবে করা যায় সঠিক উত্তরটা খুঁজতে হয়ত ঠিক
ততটাই হিমশিম খেতে হয়।
 -কেউ কেউ মনে করে ইকোনমিক্স হলো টাকা-পয়সার হিসেবে,
 -আবার অনেকে মনে করে ইকোনমিক্স হলো একাউন্টেন্সির আরেক নাম,
 -অথবা, ইকোনমিক্স হলো ফাইন্যান্স-ব্যাঙ্কিং-স্টক মার্কেট সম্মন্ধীয় স্টাডি।
কিন্তু, দুঃখের সাথে জানাচ্ছি উপরের কোনটিই সঠিক ধারণা নয়। তাহলে ইকোনমিক্স আসলে কি?

“ইকোনমিক্স হলো পরিবেশে থেকে প্রাপ্ত সীমিত সম্পদের মাধ্যমে বিশ্বের অপরিসীম চাহিদার
যোগান দেওয়ার পদ্ধতির সন্ধান।”
কি মাথার ওপর দিয়ে গেল নাকি? ঠিক আছে একটু সহজ ভাবে বোঝা যাক…

আগে দেখা যাক সীমিত বলতে ঠিক কি বোঝানো হয়েছে?
– আমাদের পৃথিবীতে প্রায় কোনো কিছুই অফুরন্ত নয়, সোনা, পেট্রল, ডিজেল, জল, মোবাইল, বই,
জায়গা-বাসা সবকিছুই সীমিত। তাই আমাদের সেই সীমিত জিনিসের মধ্যে দিয়েই আমাদের চাহিদা
পূরনের চেষ্টা করতে হয়। আচ্ছা একটা উদাহরনের মাধ্যমে বোঝা যাক।
যেমন ধরো তোমার কাছে আজ ১০ হাজার টাকা আছে, তুমি চাইছ একটা ৭ হাজারের ফোন, ২ হাজারে
জিন্স, ৩ হাজারের জুতো এবং ১ হাজারের টি-শার্ট কিনবে। তাতে তোমার দরকার ১২ হাজারটাকা,
কিন্তু তোমার কাছে আছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। তাহলে উপায়? উপায় একটাই তোমায় কিছু জিনিস
বাদ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তুমি দুটো জিনিস ভাববে। কি কি?
 এক: তোমার কোনটা বা কোনগুলো বেশি প্রয়োজন,
 দুই: দশ হাজার ব্যাবহার করে তুমি ঠিক কি কি কিনতে পারবে।
কি তাইতো? এক্ষেত্রে দেখো তোমার সামনে দুরকম ভাবে কেনাকাটার অপশন আছে (যদি সম্পূর্ণ
টাকা খরচ করতে চাও),
 এক: ৭ হাজারের ফোন + ২ হাজারে জিন্স + ১ হাজারের টি-শার্ট = ১০ হাজার।
 দুই: ৭ হাজারের ফোন + ৩ হাজারের জুতো = ১০ হাজার।
এখন যদি মনে হয় জুতো তোমার কাছে জিন্স এবং টি-শার্ট এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাহলে
অবশ্যই তুমি দ্বিতীয় অপশন বেছে নাও। আর, জিন্স এবং টি-শার্ট, তোমার কাছে জুতোর থেকে
বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে বেছে নাও প্রথম অপশনটি।
এবার ধরো তোমার কাছে ১২ হাজার টাকা এলো এবার কি তাহলে তোমার চাহিদা পূরন হবে? না হবে
না।
কেন হবে না? কারন তখন দেখবে তোমার লিস্ট এ ২ হাজার টাকা দামের একটা সানগ্লাস বা ৩
হাজারের ঘড়ি যোগ হয়ে গেছে। তাহলে তখনও তোমার কাছে তোমার চাহিদা পূরণ করার মতো টাকার
যোগান নেই। আর এটা কেবলমাত্র তোমার বা আমার ক্ষেত্রে নয়, সবার ক্ষেত্রেই সমান ভাবে
সত্য। কারন, যে কোনো দেশের কাছে মোট টাকার পরিমান নির্দিষ্ট এবং সেই নির্দিষ্ট পরিমান
টাকা নির্দিষ্ট পরিমান লোকের মধ্যে ভাগ হলে (সেটা অনির্দিষ্ট অনুপাতে হলেও) প্রত্যেকের
কাছে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকাই থাকবে(সেটা কারোর কাছে কম, কারোর কাছে বেশি হতে
পারে, তবে তা অফুরন্ত হবে না সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই)। আর তাই বলা হয়,
পরিবেশে থেকে প্রাপ্ত সীমিত সম্পদের মাধ্যমে বিশ্বের অপরিসীম চাহিদার যোগান দেওয়া সম্ভব
নয়।
তাহলে উপায় কি? উপায় একটাই “CHOICE” বা “বেছে নেওয়া”। আর, মানুষের এই বেছে নেওয়ার
ধরনের ওপরেই নির্ভর করে একটা প্যাটার্ন বানানো হয়। সেখানে মূলত দেখা হয় কোনটার চাহিদা
বেশি, কোনটার কম এবং অবশ্যই এটাও দেখা হয় যে সেই চাহিদার সাথে যোগানের কতটা
সামঞ্জস্য রয়েছে। এর ওপর নির্ভর করে এগুলোর ডিস্ট্রিবিউশন/সেলিং প্রাইস বা বিক্রয় মূল্য
ধার্য করা হয়। যেমন ধরো আজ পৃথিবীতে ১০০ কেজি সোনা অবশিষ্ট কিন্তু প্রায় ১০০০০ কেজি
সোনার চাহিদা রয়েছে তাহলে অবশ্যই তার দাম বেশি হবে, অপরদিকে যদি আমাদের কাছে
১০০০০০০০ লিটার জলের সম্ভার থাকে কিন্তু, চাহিদা কেবলমাত্র ১০০০০০ লিটারের হয় তবে
তার দাম তুলনামূলক অনেক কমে যাবে। আর এই চাহিদা এবং যোগানের ওঠা নামার ওপর নির্ভর
করেই আমাদের সমাজের অধিকাংশ জিনিসের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আর এই
সম্পূর্ণ পদ্ধতির আত্বাবোধান করাই হলো ইকোনমিক্স বা অর্থশাস্ত্রের কাজ।

এই আলোচনা থেকে আরও একটা জিনিস হয়ত তোমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। সেটা হলো- যেই
জিনিসের প্রয়োজনীয়তা বেশি, আবশ্যক নয় যে সেটার দামও বেশি হবে। তেমন হলে হয়ত আমাদের
বেঁচে থাকার জন্য সবথেকে প্রয়োজনীয় দুটি জিনিস অক্সিজেন এবং জলের দাম সবথেকে বেশি
হতো, এবং তুলনামূলক ভাবে কম প্রয়োজনীয় সোনা, ডিজেল-পেট্রল-জ্বালানি গ্যাসের দাম অনেক
কম হতো। আসলে কোনো বস্তুর মূল্য কি হবে সেটা নির্ধারণ করা হয় সেটি কতটা সহজলভ্য বা
সেটির প্রাচুর্য কেমন তার ওপর নির্ভর করে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমরা সহজেই বুঝতে
পারব যে সোনা বা ডিজেলের প্রাচুর্য কম তাই তার দাম বেশি, যেমনটা আগে বলেছিলাম চাহিদা
বেশি কিন্তু সম্ভার কম! একই ভাবে বুঝতে পারব যে অক্সিজেন বা জলের প্রাচুর্য যেহেতু
তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি বা বলা ভালো যে সেটা খুবই সহজলভ্য, তাই তার দাম এতো কম।
ইকোনমিক্স-এর মূল সিদ্ধান্তগুলো আমাদের জীবনের মূল্য বিশ্লেষণেও ক্ষেত্রেও অনেকাংশে
সাহায্য করে।
যেমন ‘লিমিটেড রিসোর্স’ বা ‘সীমিত সম্ভার’। আমাদের জীবনকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবথেকে
সীমিত সম্ভার কি? হ্যা, একদম ঠিক। ‘টাইম’ বা ‘সময়’। আমরা আমাদের জীবনে হয়ত অনেক
কিছুই করতে চাই কিন্তু, ১ ঘন্টায় ৬০ মিনিট, ১ দিনে ২৪ ঘন্টা, ১ মাসে ৩০ দিন বা ১ বছরে ৩৬৫
দিন, যাই ভাবুন না কেন সেটা সবার জন্যই সীমিত। তার মধ্যেই আমাদের বেছে নিতে হবে আমাদের
জন্য সেরাটা। যেটা আমাদের, আমাদের পরিবারের এবং আমাদের সমাজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত
হিসেবে চিহ্নিত হবে। যারা সময়ের সঠিক ব্যাবহারের মধ্যে দিয়ে সঠিক বিকল্পটি বেছে নিতে
পারবে তারাই সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেতে পারবে।

June 25, 2018

1 responses on "ইকোনমিক্স কি?"

  1. Ja puro graduation e bujhlam na. Seta aj 10 min e bujhe gleam. Darun Pablo pore…

Leave a Message

Who’s Online

There are no users currently online

X